স্টার্টআপ পীচের পর বিস্তারিত বিজনেস প্ল্যান এর অংশ হিসেবে যে পয়েন্টগুলো আসে তার মধ্যে এক্সিকিউটিভ সামারি এবং কোম্পানি ডেসক্রিপশন নিয়ে আজকের পোস্ট।
স্টার্টআপ আইডিয়া

১. এক্সিকিউটিভ সামারি-

স্টার্টআপ বিজনেসের এক্সিকিউটিভ সামারি দেখেই ইনভেস্টররা পুরা বিজনেস মডেলের ধারণা করে ফেলে ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে। তাই বিজনেসের মূল প্ল্যান কি হবে এবং আপনার আইডিয়া কিভাবে কাস্টমারের জন্য আকর্ষণীয় হবে তা সংক্ষিপ্ত আকারে এক পৃষ্ঠার মধ্যে উপস্থাপন করতে হবে এক্সিকিউটিভ সামারিতে।
যেমন- তুলশিমালা চাল সব জায়গায় উৎপাদন হয়না।কিন্তু এই চালে গ্যাস হয়না এবং বাচ্চাদের জন্য ভালো। তাই দেশের ৬৪ জেলায় ডিমান্ড আছে। কিন্তু ডিমান্ড অনুযায়ী সাপ্লাই নাই।
এখানে ইনভেস্ট করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
সারা দেশের মানুষের চাহিদা ফুলফিল হবে পাশাপাশি রেভিনিউ জেনারেট হবে।এটা হতে পারে দেলোয়ার ভাইয়ের তুলশিমালার এক্সিকিউটিভ সামারি।

স্টার্টআপ

২. কোম্পানি ডেসক্রিপশন – স্টার্টআপ

কোম্পানি ডেসক্রিপশনে স্টার্টআপ কোম্পানির মালিকানা নিয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ননা থাকবে।একক নাকি যৌথ মালিকানাধীন। যৌথ হলে ওয়ার্কিং পার্টনার নাকি আইডিয়া পার্টনার তা উল্লেখ থাকবে।
যেমন- তুলশিমালা চালের শেরপুর জেলা ওয়েবসাইট এর উত্তরাধিকারী দেলোয়ার ভাই যখন কোম্পানি ডেসক্রিপশন দিবেন সেখানে তার পার্টনার রবিউল ভাই এর ভূমিকা উল্লেখ করবেন।

৩.কাস্টমার- স্টার্টআপ

স্টার্টআপ কোম্পানির পণ্য/ সার্ভিস কাদের কে টার্গেট করে তৈরি করা মানে টার্গেট কাস্টমার কারা,কেনো আমার এই পণ্য টার্গেট কাস্টমার কিনবে,এবং এই টার্গেট কাস্টমার এর সংখ্যা বৃদ্ধি করবো কিভাবে তার একটা সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকতে হবে।
তবে পণ্য যেনো কাস্টমার ওরিয়েন্টেড হয় সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
কাস্টমারের চাহিদা মাথায় রেখে পণ্য/ সার্ভিস এর ফিচার হবে।
যেমন- আমার জামদানীর টার্গেট কাস্টমার কারা তার বর্ণনায় থাকবে গাউন এর জন্য দেশের পাশাপাশি  ইউরোপীয়ান কান্ট্রি কারণ ওখানে গাউন এর প্রচলন বেশি তাই ডিমান্ড বেশি। তেমনি করে জামদানী বোরকা/ আবায়ার জন্য মিডল ইস্ট, লেহেঙ্গা,ঘাগরা-চোলি,লাসা,কোটি ফ্রক এর জন্য এশিয়ান কান্ট্রির কাস্টমার হতে পারে বেস্ট টার্গেট কাস্টমার।
তবে পণ্যের ধরন বুঝে কাস্টমার সিলেক্ট করতে হবে।
জামদানী লেহেঙ্গার জন্য যদি ইউরোপীয়ান কাস্টমার কে টার্গেট কাস্টমার দেখানো হয়,তাহলে কাস্টমার কম হবে,রেভিনিউ জেনারেট কম হবে।
আল্টেমেটলি আমার প্ল্যানিং ভুল হবে।

৪.কম্পিটিশন –

প্রতিটি বিজনেসে কম্পিটিশন থাকবেই।
একই পণ্য নিয়ে স্টার্টআপ কোম্পানি অনেক,ইনভেস্টর কম।
আমার স্টার্টআপ কোম্পানির কম্পিটিটর কারা অথবা এখন না থাকলেও ভবিষ্যৎ এ কারা হতে পারে তার একটা আইডিয়া দিতে হবে।
এবং আমার কম্পিটিটর রেখে আমার টার্গেট কাস্টমার কেনো আমার পণ্য /সার্ভিস কিনবে তা বর্ণনা করতে হবে।
মোট কথা আমার পণ্য কেনো আলাদা তা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
যেমন – তুলসিমালা চাল অনেকেই সেল করছেন।যারা করছেন তারা দেলোয়ার ভাইয়ের কম্পিটিটর।এখন কথা হচ্ছে আমারা কেনো দেলোয়ার ভাইয়ের তুলশিমালা কিনবো? কেনো উনার তুলশিমালা চাল আলাদা?
কারণ হতে পারে- উনার চাল মিক্সড না,অর্গানিক,কাস্টমার ফিডব্যাক এ দেখা গিয়েছে গ্যাস হয়না এবং বাচ্চাদের জন্য খুবই উপকারী।